সরকারের গন্তব্য
বাংলাদেশে সরকারের কর্মকৌশল কী
হবে, এ ব্যাপারে গত পাঁচ বছর ধরে এখানকার সরকারি নীতিনির্ধারকদের চেয়ে
ভারতের কিছু সাবেক নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে আভাস অনেক বেশি সুস্পষ্টরূপে
পাওয়া যায়। যাদের লেখায় এ ধরনের আভাস বেশি স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় তাদের একজন
হলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। তিনি বাংলাদেশসহ
অনেক দেশেই ভারতীয় হাইকমিশনার বা রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ
অক্সফোর্ডে অধ্যয়নকারী এই ভারতীয় কূটনীতিক তার পেশাজীবনের শেষ পর্যায়ে
কমনওয়েলথের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কয়েকদিন আগে তিনি ভারতীয় টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ‘অন দি রাইট সাইড অব দি হিস্টরি’ নামে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবেদন লিখেন। তার এ লেখাটি একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ পাওয়া ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পরামর্শের সাথে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। শ্রীনিবাসন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ২০ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেছেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ২৫ শতাংশের বেশি ভোটার অংশ নেয় না; কিন্তু তিনি এটি বলেননি যে ইইউ গঠন হওয়ার পর থেকে এটি হলো ইইউ সংসদের ভোট দেয়ার সাধারণ অনুপাত। অথচ বাংলাদেশে এর আগের বারে (২০০৮) সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল। আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও এর কাছাকাছি হারে ভোট পড়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো ৫ শতাংশের পরিবর্তে শ্রীনিবাসনের দাবি অনুসারে ২০ শতাংশ ভোটারেরও যদি ভোট দেয়া হয়ে থাকে সেটি কিভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে।
লেখাটিতে শ্রীনিবাসন শেখ হাসিনার যুক্তি সমর্থন করে বলেন, পৃথিবীর কোনো গণতন্ত্রেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না। বেগম জিয়ার এ ধরনের সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি যৌক্তিক ছিল না। কিন্তু তিনি এটি ভুলে যেতে চেয়েছেন যে, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা নিজে। গত চার বছরের আন্দোলনে বেগম জিয়া যেসব কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বলেছেন ঠিক এ কথাই শোনা গিয়েছিল ২০০৬ সালের পূর্ববর্তী সময়ে শেখ হাসিনার মুখে।
সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যাপারে শেখ হাসিনার সাথে সুর মিলিয়েছেন শ্রীনিবাসন। তিনি বলেছেন, সেই নিক্সন-কিসিঞ্জারের আমল থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতি বিরূপ হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন না করার মহাভুল করেছিল। এখন তারা নোবেল জয়ী ড. ইউনূসের মর্যাদার ব্যাপারে শেখ হাসিনার দ্বিমতে এবং মুক্তিযুদ্ধের অপরাধীদের বিচার ইস্যুতে একই ধরনের বৈরিতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু কি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অস্বীকার করবে যে উগ্র ইসলামিস্ট হিসেবে পরিচিত জামায়াত হলো বিএনপির প্রধান সহযোগী। গণতন্ত্রের নীতি ও চেতনাকে উচ্চকিত করার চেয়েও পাকিস্তানপন্থীদের বিচারের হাত থেকে বাঁচানোই হলো তাদের প্রধান এজেন্ডা।
লক্ষ্য করার বিষয় হলো, জামায়াতের ব্যাপারে জুজুর ভয় দেখানোর কৌশলটি প্রতিবেশীদের বেশ পুরনো। গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তাদের ব্যাপারে এই প্রচারণাই চালানো হয়েছে দলটি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠছে যে অচিরেই তারা ক্ষমতায় চলে আসতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ মানুষ জামায়াত ও ইসলামিস্টদের সমর্থক বলে উল্লেখ করেছিলেন। অথচ জামায়াত নিকট অতীতের নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেনি। দলটি এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্তির রেকর্ড ১১ শতাংশের কোঠায়। দলটি বাংলাদেশে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে সব ক’টি নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে একাধিক সময়ে আওয়ামী লীগ জামায়াত যুগপৎ আন্দোলন করেছে। আসলে জামায়াতের যুক্তি দেখিয়ে ১৯৭৫ সালের পরবর্তী যে রাজনীতি বাংলাদেশে প্রধান হয়ে উঠেছিল সেটির নির্মূল কামনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কর্মসূচি নেয়ার জন্য পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।
শ্রীনিবাসন তার লেখার শেষ পর্যায়ে একতরফা নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার ব্যাপারে শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ভারত ইতিহাসের সঠিক প্রান্তেই থাকবে। এখন শেখ হাসিনার উচিত হবে খালেদা জিয়ার সাথে অর্থহীন সমঝোতার চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তার সরকার ও ক্ষমতাকে সুসংহত করা। যারা সহিংসতার সাথে যুক্ত ছিল তাদের গ্রেফতার ও দমন করা। ১৯৭১ সালের রাজাকারদের দণ্ড কার্যকর করা। আর সেই সাথে উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতি নজর দেয়া।
শ্রীনিবাসন উল্লেখ করেছেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচন বয়কট অথবা তাকে সুযোগ দিতে আশু অরেকটি নির্বাচনের দাবির বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মতো আধাসামরিক বাহিনী এর মধ্যে অনেক কিছু করেছে, তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকলে শেখ হাসিনার পুরো মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। বেগম জিয়া এবং জামায়াতের সহিংসতাকেন্দ্রিক অসহযোগ আন্দোলনের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিএনপিকে সামনে ভাঙনের মুখে পড়তে হবে। দলটির অনেক নেতাই জনমত জরিপে জেতার সম্ভাবনা থাকার পরও নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্তের সাথে একমত ছিল না। আন্তর্জাতিক চাপও বেশি কিছু করতে পারবে না।
ক্ষমতাকে সংহত করতে কি কি করতে হবে এ ব্যাপারে শ্রীনিবাসনের বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু বলা নেই। তবে নির্বাচনোত্তর সময়ে সারা দেশে যৌথবাহিনীর মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারের নামে যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে তার সাথে সরকারকে সংহত করার কর্মসূচির সম্পর্ক থাকতে পারে। শ্রীনিবাসন তার লেখায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত সমর্থনের কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে আগামী দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিবারগুলো থেকে কর্মকর্র্তা ও জওয়ান পর্যায়ে ৭৩ হাজার সদস্য নিয়োগ করার একটি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এসব বাহিনীকে এমনভাবে বিন্যাস করতে হবে যাতে তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে; কিন্তু সরকারের ইচ্ছার বাইরে কিছু করার ক্ষমতা তাদের থাকবে না। সব কিছুর মূল লক্ষ্য হবে ১৯৭৫ পরবর্তী ধারার রাজনীতির সুযোগ না থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা। নির্বাচনের আগে মতলববাজ মানবাধিকার নেত্রী হিসেবে বিতর্কিত সুলতানা কামাল বলেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবহির্ভূত কোনো দলের রাজনীতি করতে দেয়া উচিত নয়। সরকারি দলের নেতারা মহাজোটের বাইরের সব দলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরের দল হিসেবে চিহ্নিহ্নত করে থাকে। সুলতানা কামালের দাবি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে আবার ৭৫ পূর্ববর্তী সময় ফিরে আসতে কোনো বাধা হয়ত আর থাকবে না। এ দেশ স্থায়ীভাবে পরিচালিত হবে সংখ্যালঘিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ইচ্ছায়।
mrkmmb@gmail.com
কয়েকদিন আগে তিনি ভারতীয় টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ‘অন দি রাইট সাইড অব দি হিস্টরি’ নামে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবেদন লিখেন। তার এ লেখাটি একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ পাওয়া ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পরামর্শের সাথে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। শ্রীনিবাসন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ২০ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেছেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ২৫ শতাংশের বেশি ভোটার অংশ নেয় না; কিন্তু তিনি এটি বলেননি যে ইইউ গঠন হওয়ার পর থেকে এটি হলো ইইউ সংসদের ভোট দেয়ার সাধারণ অনুপাত। অথচ বাংলাদেশে এর আগের বারে (২০০৮) সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল। আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও এর কাছাকাছি হারে ভোট পড়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো ৫ শতাংশের পরিবর্তে শ্রীনিবাসনের দাবি অনুসারে ২০ শতাংশ ভোটারেরও যদি ভোট দেয়া হয়ে থাকে সেটি কিভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে।
লেখাটিতে শ্রীনিবাসন শেখ হাসিনার যুক্তি সমর্থন করে বলেন, পৃথিবীর কোনো গণতন্ত্রেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না। বেগম জিয়ার এ ধরনের সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি যৌক্তিক ছিল না। কিন্তু তিনি এটি ভুলে যেতে চেয়েছেন যে, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা নিজে। গত চার বছরের আন্দোলনে বেগম জিয়া যেসব কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বলেছেন ঠিক এ কথাই শোনা গিয়েছিল ২০০৬ সালের পূর্ববর্তী সময়ে শেখ হাসিনার মুখে।
সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যাপারে শেখ হাসিনার সাথে সুর মিলিয়েছেন শ্রীনিবাসন। তিনি বলেছেন, সেই নিক্সন-কিসিঞ্জারের আমল থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতি বিরূপ হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন না করার মহাভুল করেছিল। এখন তারা নোবেল জয়ী ড. ইউনূসের মর্যাদার ব্যাপারে শেখ হাসিনার দ্বিমতে এবং মুক্তিযুদ্ধের অপরাধীদের বিচার ইস্যুতে একই ধরনের বৈরিতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু কি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অস্বীকার করবে যে উগ্র ইসলামিস্ট হিসেবে পরিচিত জামায়াত হলো বিএনপির প্রধান সহযোগী। গণতন্ত্রের নীতি ও চেতনাকে উচ্চকিত করার চেয়েও পাকিস্তানপন্থীদের বিচারের হাত থেকে বাঁচানোই হলো তাদের প্রধান এজেন্ডা।
লক্ষ্য করার বিষয় হলো, জামায়াতের ব্যাপারে জুজুর ভয় দেখানোর কৌশলটি প্রতিবেশীদের বেশ পুরনো। গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তাদের ব্যাপারে এই প্রচারণাই চালানো হয়েছে দলটি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠছে যে অচিরেই তারা ক্ষমতায় চলে আসতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ মানুষ জামায়াত ও ইসলামিস্টদের সমর্থক বলে উল্লেখ করেছিলেন। অথচ জামায়াত নিকট অতীতের নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেনি। দলটি এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্তির রেকর্ড ১১ শতাংশের কোঠায়। দলটি বাংলাদেশে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে সব ক’টি নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে একাধিক সময়ে আওয়ামী লীগ জামায়াত যুগপৎ আন্দোলন করেছে। আসলে জামায়াতের যুক্তি দেখিয়ে ১৯৭৫ সালের পরবর্তী যে রাজনীতি বাংলাদেশে প্রধান হয়ে উঠেছিল সেটির নির্মূল কামনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কর্মসূচি নেয়ার জন্য পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।
শ্রীনিবাসন তার লেখার শেষ পর্যায়ে একতরফা নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার ব্যাপারে শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ভারত ইতিহাসের সঠিক প্রান্তেই থাকবে। এখন শেখ হাসিনার উচিত হবে খালেদা জিয়ার সাথে অর্থহীন সমঝোতার চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তার সরকার ও ক্ষমতাকে সুসংহত করা। যারা সহিংসতার সাথে যুক্ত ছিল তাদের গ্রেফতার ও দমন করা। ১৯৭১ সালের রাজাকারদের দণ্ড কার্যকর করা। আর সেই সাথে উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতি নজর দেয়া।
শ্রীনিবাসন উল্লেখ করেছেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচন বয়কট অথবা তাকে সুযোগ দিতে আশু অরেকটি নির্বাচনের দাবির বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মতো আধাসামরিক বাহিনী এর মধ্যে অনেক কিছু করেছে, তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকলে শেখ হাসিনার পুরো মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। বেগম জিয়া এবং জামায়াতের সহিংসতাকেন্দ্রিক অসহযোগ আন্দোলনের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিএনপিকে সামনে ভাঙনের মুখে পড়তে হবে। দলটির অনেক নেতাই জনমত জরিপে জেতার সম্ভাবনা থাকার পরও নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্তের সাথে একমত ছিল না। আন্তর্জাতিক চাপও বেশি কিছু করতে পারবে না।
ক্ষমতাকে সংহত করতে কি কি করতে হবে এ ব্যাপারে শ্রীনিবাসনের বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু বলা নেই। তবে নির্বাচনোত্তর সময়ে সারা দেশে যৌথবাহিনীর মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারের নামে যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে তার সাথে সরকারকে সংহত করার কর্মসূচির সম্পর্ক থাকতে পারে। শ্রীনিবাসন তার লেখায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত সমর্থনের কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে আগামী দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিবারগুলো থেকে কর্মকর্র্তা ও জওয়ান পর্যায়ে ৭৩ হাজার সদস্য নিয়োগ করার একটি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এসব বাহিনীকে এমনভাবে বিন্যাস করতে হবে যাতে তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে; কিন্তু সরকারের ইচ্ছার বাইরে কিছু করার ক্ষমতা তাদের থাকবে না। সব কিছুর মূল লক্ষ্য হবে ১৯৭৫ পরবর্তী ধারার রাজনীতির সুযোগ না থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা। নির্বাচনের আগে মতলববাজ মানবাধিকার নেত্রী হিসেবে বিতর্কিত সুলতানা কামাল বলেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবহির্ভূত কোনো দলের রাজনীতি করতে দেয়া উচিত নয়। সরকারি দলের নেতারা মহাজোটের বাইরের সব দলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরের দল হিসেবে চিহ্নিহ্নত করে থাকে। সুলতানা কামালের দাবি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে আবার ৭৫ পূর্ববর্তী সময় ফিরে আসতে কোনো বাধা হয়ত আর থাকবে না। এ দেশ স্থায়ীভাবে পরিচালিত হবে সংখ্যালঘিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ইচ্ছায়।
mrkmmb@gmail.com
Comments
Post a Comment