এক রাতে শিবির মনে করে ৮২ জন গ্রেফতার
সিলেট ব্যুরো
৩১ জানুয়ারি ২০১৪, শুক্রবার,
৩১ জানুয়ারি ২০১৪, শুক্রবার,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের চিহ্নিত
সন্ত্রাসীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যকলাপ
চালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো জামাই আদরে
লালন করা হয়। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেও উল্টো জেল
জুলুমের শিকার হতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতা
কর্মীদের। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিবির নেতার উপর
হামলা ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও শিবিরের
মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর হয়। এ ঘটনায়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে
অবস্থান না নিয়ে প্রতিবাদী শিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে। এ
মামলা দায়েরের পর চলছে গণগ্রেফতার। আর এসব গণগ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত তিন-চার দিনে অন্তত পক্ষে
দুই শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী এমনকি দিনমজুররাও বাদ যাচ্ছেন না গণগ্রেফতার
থেকে। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই জালালাবাদ থানা পুলিশ অভিযান
চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও মেস থেকে ৮২
জনকে গ্রেফতার করে । এ গণগ্রেফতারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও
চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমনকি গভীর রাতে আটককৃতদের দুপুর পর্যন্ত কোনো
খাবার সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিুদ্ধ
শিক্ষার্থীরা জালালাবাদ থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌসুল হোসেন জানান, আটককৃতদের
জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংঘর্ষের সাথে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবেনা
তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। বাকিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রী শেখর রায় জানান, আমরা পুলিশ
প্রশাসনকে বলেছি নিরাপরাধ কোন সাধারণ শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না
হয়। পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছে।
১৪ শিবির নেতাকর্র্র্মী বহিস্কার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রশিবিরের ১৪
নেতাকর্মীকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১৩
ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক উদ্দিনের মোটরবাইকে অগ্নিসংযোগ এবং শাবির
চেতনা ৭১’র নামফলক ভাংচুরের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনায়
গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শাখা ছাত্র শিবিরের ১৪ নেতাকর্মীকে
বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে শৃঙ্খলা
কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জানতে চইলে তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক জহির বিন আলম বলেন, বহিস্কারের ব্যাপারে আমি কাউকে কোনো পরামর্শ দেইনি।
Comments
Post a Comment